মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পসংক্রান্ত আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান এতে অংশ নেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ পেতে বাংলাদেশকে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সক্ষমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। বিদেশি ক্রেতাদের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কাজ করছে।
সভায় জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইয়ার্ড আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান এবং দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকেই সংশ্লিষ্ট ছাড়পত্র ও ফাইল অনুমোদনের ব্যবস্থা করে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের বিলম্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, টিএসডিএফ না থাকায় ইউরোপীয় জাহাজ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে দ্বিধা করছে। তাই পরিবেশগত মান বজায় রেখে বর্জ্য শোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে হবে।
শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান জানান, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম গতিশীল করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ শুরু করেছে। হংকং কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রিন ইয়ার্ডের নির্দেশিকা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের কাজও চলছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও শিল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মধ্যে ভারসাম্য রেখে হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।




