গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে লটারি পদ্ধতির নামে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম, গ্রেডিং শিট কারচুপি এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে প্রভাব খাটিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে (কেপিআই) পদায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
জানা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে অধিদপ্তরের প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, লটারির আগেই তালিকা নির্ধারণ করে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, রেজা তাইমুর মালিক এবং সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় ও সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা মাসুম বিল্লাহর মতো কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এর দায়িত্ব নেওয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধেও টেন্ডারবাণিজ্য এবং মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংসদ ভবন, এনএসআই, দুদক সদরদপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোতে এসব পদায়নের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে বিতর্কিত ও রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা সরকারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। অবিলম্বে এসব পদায়নের বিষয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


