বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বনি আমিন জানান, তিনি এখনো ইতালির ঐতিহাসিক নগরী রোমে অবস্থান করছেন এবং নিরাপদ আছেন। ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পুরো ঘটনার বিস্তারিত শিগগিরই ভিডিও বার্তায় প্রকাশ করবেন বলেও জানান।
স্ট্যাটাসে বনি আমিন দাবি করেন, রোমের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত টর পিনিয়াত্তারা এলাকায় রাত প্রায় ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার অভিযোগ, জন্মভূমি বাংলাদেশ নিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও মতপ্রকাশের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয়, তাদের ভূমিকা এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ এবং সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বনি আমিন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত দেশে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ইতালির প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, হামলা, ভয়ভীতি কিংবা কোনো ধরনের চাপ তাকে তার বিশ্বাস ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে নিজের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারবে না; বরং আরও দৃঢ় করবে। দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট রয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলে যাবেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে বনি আমিন বিশ্বব্যাপী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরের বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও প্রকাশ্যে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে ইতালির রোমে বনি আমিনের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।