মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকল্যাণের সোপান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আঁচল ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি), লিডোসহ কয়েকটি সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ-সংঘাত, দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাপন, একাকীত্ব ও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা এ সমস্যার বড় শিকার। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে বড় শহর ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
তিনি জানান, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবার সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। এ জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য খাতে শুধু ভবন নির্মাণ ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনার ওপর গুরুত্ব দিলে হবে না; সেবা দেওয়ার উপযোগী দক্ষ জনবলও নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দিতে দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি ভোকেশনাল ডিপ্লোমা বা কারিগরি কোর্স চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কাঠামোর আওতায় মধ্যম স্তরের মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং সামাজিক কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর করতে নীতিগত উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সাইদুর রহমানসহ অন্যরা।




