মঙ্গলবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্গেও জড়িত। তাই উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা-২০২৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উৎপাদক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এনপিএপি বাংলাদেশ বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়, নীতির বাস্তবায়ন, উদ্ভাবনী সমাধানের প্রসার এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগের সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে। এ সময় তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কার্যকর সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার পাশাপাশি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বর্জ্যকর্মীদের জীবনমানের উন্নতি হবে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নালা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনি পরিবার পর্যায় থেকে বর্জ্য আলাদা করা এবং সংগ্রহের সময় তা পৃথক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




