সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সভায় ২০২৬-২৭ পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা গড়ে দুই হাজারের মধ্যে সীমিত এবং ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। এসব নিয়ম পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট কেনা এবং পরিবেশবান্ধব নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিহার এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান।
সভায় আরও জানানো হয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি ও প্রবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। রাতে সৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।
সভায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




