সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বা দায়িত্ব শেষে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সেই সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে রোববার সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে পৃথক দুটি অভিযোগ জমা দিয়েছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দুদকের কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। সে সময়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ, পিজিআর এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি অভিযোগ
বাংলাদেশ আজাদ পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে পৃথক অভিযোগ জমা দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গুম, খুন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মো. আয়াস অভিযোগে দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
আর্থিক অনিয়মের তদন্ত নিয়ে অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিনকে লক্ষ্য করে আলাদা কোনো আর্থিক তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলমান তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়ম তদন্ত করে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।
ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত প্রতিবেদন
বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের কথিত শেয়ার ও ঋণসংক্রান্ত অনিয়মে মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন।