বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার শুরু হয়েছিল ছাত্রজীবনেই। ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করলে জমির উদ্দিন সরকার সেই দলে যোগ দেন। তিনি জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আইনজীবী হিসেবে তার সুনামের কারণে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে পাঁচবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন।
মন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব
জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি ১৯৮১ সালে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের সরকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদি বিএনপি সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
স্পিকার ও সংসদ সদস্য
২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জমির উদ্দিন সরকার।
তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে। এরপর ঢাকা-৯, পঞ্চগড়-১ এবং ২০০৯ সালে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনসহ একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি সম্পন্ন করার পর ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী নূর আখতার, এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফল জমির রেখে গেছেন। তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।