নিউইয়র্কের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। ২০১০ সালের পর ১৬ বছর বিরতি শেষে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে স্পেন।
পুরো টুর্নামেন্টে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল আক্রমণ ও রক্ষণে অসাধারণ ভারসাম্য দেখায়। মাঝমাঠে দাপুটে পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন রদ্রি।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যান ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১০ গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন, যা নতুন এক রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক দেখায় নবাগত কেপ ভার্দে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের টপকে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় এবং শেষ ষোলো পর্যন্ত দারুণ লড়াই উপহার দেয়। অন্যদিকে, কুরাসাওও নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে সাহসী পারফরম্যান্স দিয়ে প্রশংসা কুড়ায়।
আর্জেন্টিনা পুরো আসরজুড়েই লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের কাছে হার মানতে হয়।
মাঠের বাইরেও বিশ্বকাপ ছিল নানা আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
এদিকে নরওয়ের আর্লিং হ্যালান্ড শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সতীর্থদের সঙ্গে তার ‘ভাইকিং’ উদযাপন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়।
নতুন ফরম্যাট, ৪৮ দলের অংশগ্রহণ এবং একের পর এক নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।