হাসমত আলীর বাড়ি পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লায়। পেশায় তিনি একজন চিত্রশিল্পী। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বিলবোর্ড আঁকাই তার পেশা। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় পুরো সময়ই ব্যয় করছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখ, হাত ও শরীরে পতাকা এঁকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকেই তার বাড়ির সামনে শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সারি। রংতুলি হাতে একের পর এক সমর্থকের মুখ ও শরীরে আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকছেন তিনি। অনেকের অনুরোধে বাংলাদেশের পতাকাও এঁকে দিচ্ছেন।
পতাকা আঁকাতে আসা বনগ্রাম এলাকার সোহান, সজিব, ফয়সালসহ কয়েকজন শিশু-কিশোর জানায়, তারা আর্জেন্টিনা ও মেসির বড় ভক্ত। ফাইনাল উপলক্ষে শরীরে আর্জেন্টিনার পতাকা এঁকে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তারা এসেছে।
হাসমত আলী বলেন, আর্জেন্টিনার খেলা থাকলেই দুপুর থেকে তার বাড়িতে সমর্থকদের ভিড় শুরু হয়। জার্সির সঙ্গে শরীরে পতাকা এঁকে বড় পর্দায় খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। দল জিতলে পরদিনও অনেকে পতাকা আঁকাতে আসেন।
তিনি বলেন, "আমিও আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই কেউ প্রিয় দলের পতাকা আঁকাতে চাইলে ফিরিয়ে দিতে পারি না। ফাইনালের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়শ জনের শরীরে পতাকা আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার জনের শরীরে পতাকা এঁকেছি। আশা করছি, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই চার হাজারের বেশি মানুষের শরীরে পতাকা আঁকা হবে।"
আর্জেন্টিনা সমর্থক ও বেড়া বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, হাসমত আলীর আঁকা পতাকা গোটা এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। তার এই উদ্যোগে বিশ্বকাপের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।