ডিবি সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরিচয় ও মামলার নথিপত্র যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কে এই মেজর মোজাফফর?
মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একজন। বিচার শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় ৪৫ বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে যান। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মেজর মোজাফফর নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
যে হত্যাকাণ্ড বদলে দিয়েছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস
১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে যান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা। সারাদিন বৈঠক শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন।
পরদিন ৩০ মে ভোরে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা সার্কিট হাউসে হামলা চালায়। ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে রেডিওতে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়।
ঘটনার পর হত্যা মামলার বিচার শেষে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ রায় কার্যকর হওয়ার আগে গ্রেপ্তার হন, আবার কেউ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ছিলেন সেই পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন।
দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।