ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা এই ডাচ ফুটবল জাদুকর কেন সেই বিশ্বকাপ থেকে দূরে ছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘ সময়ধরে নানা গুঞ্জন ও অনুমান চলেছে। কেউ বলেছিলেন আর্থিক বিবাদের কারণে, কেউ আবার রাজনৈতিক প্রতিবাদের কারণদেখিয়েছেন। কিন্তু ২০০৮ সালে ক্রুইফ নিজেই এক রেডিও সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন এক চরম ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা, যা ছিল তারবিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকার মূল কারণ।
বন্দুকের নলে থমকে যায় এক ফুটবলারের বিশ্বজয়
১৯৭৭ সালের শেষের দিকে, যখন ক্রুইফ বার্সেলোনায় ছিলেন, তখন তার বাড়িতে একদল সশস্ত্র অপরাধী হানা দেয়। তারা ক্রুইফ এবংতার স্ত্রী ড্যানি কোস্টারকে বেঁধে ফেলে এবং তাদের সন্তানদের সামনে ক্রুইফের মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে রাখে। অপরাধীদের উদ্দেশ্য ছিলক্রুইফ ও তার পরিবারকে অপহরণ করা। সৌভাগ্যবশত, ক্রুইফ নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন এবং অপহরণ ব্যর্থ হয়। তবে এই একরাতের ঘটনা তার জীবন ও মানসিক অবস্থাকে চিরতরে বদলে দেয়।
এই ঘটনার পর কয়েক মাস ধরে ক্রুইফের বাড়ি পুলিশের কঠোর পাহারায় ছিল। তার সন্তানদের স্কুলে পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হয় এবংনিজেও বডিগার্ড ছাড়া মাঠে নামতে পারতেন না। ক্রুইফ রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, “বিশ্বকাপে খেলতে গেলে ২০০% মনোযোগ দিতেহয়, কিন্তু আমার মাথায় তখন শুধু পরিবারের নিরাপত্তা ঘুরছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারকে ছেড়ে অন্য দেশে ফুটবল খেলা অসম্ভবছিল।”
আরও পড়ুন
ক্রুইফ না থাকায় নেদারল্যান্ডস দল ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়।ফুটবলবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি ক্রুইফ মাঠে থাকতেন, তাহলে ডাচরা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে পারত।
দীর্ঘ ৩০ বছর এই সত্যটি গোপন রেখেছিলেন ক্রুইফ। তিনি চাননি তার ব্যক্তিগত দুঃখ ফুটবল বিশ্বে আলোচিত হোক। তবে ২০০৮সালে সত্য প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীরা বুঝতে পারে, মাঠের হিরো হলেও ক্রুইফের কাছে পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।