সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন করে ফিরে আসছে: সাদিক কায়েম
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক এবং ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ডাকসুসহ পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে দখলদারত্ব, গণরুম ও গেস্টরুমের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অন্যায় ও দখলদারত্বের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আরও পড়ুন
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সায়েন্স ল্যাব এলাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় শহীদ উসমান হাদি ও আবরার ফাহাদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, শুধু কোন বিষয়ে বা প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন, তা সাফল্যের একমাত্র নির্ধারক নয়; বরং সময়ের সদ্ব্যবহার, পরিকল্পনা ও দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো, বিদেশি ভাষা শেখা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ডাকসুর চাকরি মেলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি অংশ নিয়েছিল এবং ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চাকরির বেতন ছিল ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন, গণভোটের জনরায় কার্যকর এবং ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান তিনি। জ্বালানি সংকট ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দখলদারত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাদিক কায়েম।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, সাবেক কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।