রাজনীতি

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের, একক কোনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই: জামায়াত আমির

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দল আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষ। আন্দোলনের কৃতিত্ব পুরো জাতির, আর নেতৃত্বের কৃতিত্ব ছাত্র-তরুণ সমাজের। এই কৃতিত্ব নিয়ে টানাটানি করা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। শহীদদের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, বরং পুরো জাতির সম্পদ উল্লেখ করে তিনি তাদের নিয়ে বিভাজনমূলক রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

জামায়াত আমির জুলাই আন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা যায়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দাম বাড়ানোর পর যদি সংকট দূর করা সম্ভব হয়, তাহলে আগে কেন তা সমাধান করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলার মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতা। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, বিদেশি প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী গণতান্ত্রিক সংস্কার, শহীদদের বিচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একই বিভাগের আরও খবর