সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর প্রতি এসব খাদ্যপণ্য পরীক্ষার আহ্বান জানান।
দুই-তিন মাস মেয়াদি কেক-ব্রেডের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, ল্যাব পরীক্ষার দাবি সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনের
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে প্রাণ, ড্যান কেক, অলিম্পিক, কাজী ফার্মসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেক ও ব্রেডের মেয়াদ দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
মাহবুব কবির মিলন বলেন, দোকানে প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় এসব খাদ্যপণ্য নিরাপদ ও অক্ষত থাকে কীভাবে—সেটি নিয়ে তিনি কোনো ব্যবসায়িক গোপন তথ্য জানতে চান না। তবে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভের মাত্রা সঠিক আছে কি না, ঘোষিত উপাদানের বাইরে অন্য কোনো সংরক্ষণকারী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মাইক্রোবিয়াল কন্টামিনেশন বা অনুজীবের উপস্থিতি কতটা—এসব তথ্য জানার অধিকার ভোক্তাদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে বাজার থেকে এসব কেক ও ব্রেড সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি সংস্থাগুলোর নিজস্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। তাই স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
স্ট্যাটাসে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাগারগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মাহবুব কবির মিলন। তিনি বলেন, এসব খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ, এর মাত্রা এবং শেলফ লাইফের মধ্যে অনুজীবের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে ভোক্তারা বাস্তবভিত্তিক তথ্য জানতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুবিধা পাবে।
এছাড়া সাধারণ মানুষকে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কেক ও ব্রেডের উভয় পাশের ছবিসহ তথ্য মন্তব্যে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মাহবুব কবির মিলন প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং ২০২২ সালে অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে অবসর নেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য তিনি পরিচিত।