সারাদেশ

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে মেধাবী ছাবিদ, সাহায্যের আবেদন

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি শয্যায় চিকিৎসাধীন ছাবিদ। হাসপাতালের বেডে শুয়েই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনেছে সে। আনন্দের সেই মুহূর্তও পরিবারের চোখে এনে দিয়েছে অশ্রু।

ছাবিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র সন্তান। বর্তমানে সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (আরএআরএস) উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর আগে চর-সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।

তার শিক্ষকেরা জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবারই শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ছাবিদ। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন

ছাবিদের বাবা আশরাফুল আলম রোকন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। চিকিৎসকদের মতে, ছাবিদের সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু সেই ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

মা লিজা খাতুন বলেন, যে সময় ছেলের বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময় চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালেই ছুটতে হচ্ছে। একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতেও নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ছাবিদ শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীই নয়, ভদ্র, শান্ত স্বভাবের এবং নিয়মিত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াতকারী একজন শিশু। তার অসুস্থতায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

একসময় যে ছেলে দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখত, আজ তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফেরা। তাই ছাবিদের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।

সহায়তা করতে যোগাযোগ:

আশরাফুল আলম রোকন (ছাবিদের বাবা)

📞 ০১৭৪২-৯৪৭৯৪৮ (বিকাশ পার্সোনাল)

একই বিভাগের আরও খবর