ইরানের হাতে রয়েছে সব তাস—প্রধানত হরমুজ প্রণালি, পাশাপাশি উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করেছে, সেটিও। আরও কিছু তাস এখনো তারা ব্যবহারই করেনি, যেমন লোহিত সাগরের মুখে বাব এল–মানডেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। ট্রাম্পের হাতে তেমন কিছুই নেই।
এ শতাব্দীর প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক ব্যর্থতাগুলো—এমন সময়ে যখন তাদের সামরিক শক্তি ছিল প্রশ্নাতীত এবং শক্তি প্রয়োগে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল যুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষভাবে লিপিবদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনা। ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তাঁর পূর্বসূরিদের ভুলের পুনরাবৃত্তিই করেননি; বরং নিজের পক্ষ থেকেও নতুন কিছু ভুল যোগ করেছেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে আক্রমণ করেছিলেন, দাবি করা হয়েছিল যে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, ট্রাম্পও তেমনি ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানে হামলা চালিয়েছেন। তবে অন্তত বুশের সন্দেহজনক গোয়েন্দা নথি এসেছিল তাঁর নিজের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। ট্রাম্পের ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য তৈরি করেছিল মোসাদ; আর মার্কিন গোয়েন্দা মহলের পরামর্শ উপেক্ষা করে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন মার্কিন প্রধান সেনাপতি।
আরও পড়ুন
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নেয়া ট্রাম্পকে বোঝান যে জানুয়ারির বিদ্রোহের পর তেহরানের সরকার এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সর্বোচ্চ নেতা হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়বে। এ যুক্তির সবচেয়ে বড় প্রবক্তা ছিলেন নেতানিয়াহু, যাঁর আজীবনের স্বপ্ন যেন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল।
তিনি দাবি করছিলেন, আর মাত্র একটি শেষ ধাক্কাই যথেষ্ট। এখন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে, আর সবচেয়ে বড় পরাজিতও তিনিই; এ কারণেই তিনি মরিয়া হয়ে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা থেকে বিরত রাখতে চাইছেন। তবে যুদ্ধ শেষ হলে এই দুই নেতার জন্যই চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের সময় আসবে।