সারাদেশ

পদ্মা নদীতে নৌকা নিয়ে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর পরিবারে আহাজারি

সুপার এডমিন প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

বাড়িতে এসে গুলি করে স্বপন ব্যাপারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে স্বজনেরা লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলেও পুলিশ বলছে, লাশ যেহেতু পাওয়া যায়নি, সে জন্য আপাতত মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে। লাশ পাওয়া গেলে মামলাটা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক রাজাপুর ইউনিয়নের কালীদাসখালী গ্রামের সিদ্দিক ব্যাপারী ছেলে স্বপন ব্যাপারীকে গত সোমবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বাড়ির সামনে এসে একদল লোক গুলি করে। পরে তারা তাঁকে নৌকায় তুলে নিয়ে চলে যায়। ওই ব্যক্তিরা দুটি নৌকা নিয়ে এসেছিল।

আরও পড়ুন

পুলিশ লাশ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেনি। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, স্বপন ব্যাপারী আর বেঁচে নেই। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এত রক্তক্ষরণের পর মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না।

 

সিদ্দিক ব্যাপারীর বাড়ির সঙ্গেই পদ্মা নদী। স্বপন সম্প্রতি বাবার বাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে আলাদা বাড়ি করেছেন। তাঁর একটি মুদিদোকান আছে। বাড়ির পাশে নদীতে বালু তোলার ৩৩টি ড্রেজার ছিল। স্বপনের দোকান থেকে ড্রেজারের লোকেরা তেল কিনতেন। স্বপন ব্যাপারীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে আর মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বপনের মা রোকেয়া বেগম বলেন, সোমবার রাতে তাঁর ছেলে এসে গরমের কারণে তাঁদের বাড়ির সামনে বাতাসে বসেছিলেন। তখন বাড়ির সামনে ড্রেজারের বালু তোলার ৪-৫ জন লোক এসে বসে। কিছুক্ষণ পরই দুটি নৌকা এসে ভেড়ে। নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা তাঁর ছেলের কাছে জানতে চায়, ‘তুই এখানে কেন?’ তাঁর ছেলে জবাব দেন, ‘এটা আমার বাড়ি।’ তিনবার তিনি জবাব দেন, ‘এটা আমার বাড়ি।’ চারবারের বেলায় তাঁর ছেলে বলেন, ‘এটা আমার বাপের বাড়ি।’ বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা গুলি চালায়।

স্বপন ব্যাপারীর মা রোকেয়া বেগম বলেন, এ কথা শুনে তিনি ঘরের জানালা খোলেন। জানালার পাশে ৬ জন দাঁড়িয়েছিল। তারা হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘জানালা বন্ধ কর, না হলে তোরে গুলি করব। না হলে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেব।’

 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সিদ্দিক ব্যাপারী বাঘা থানায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় আজ বুধবার বেলা দুইটা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

এদিকে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে সিদ্দিক ব্যাপারী পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা নদীতে ছেলের লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা দেখছেন, ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, কোথাও লাশ ভেসে উঠেছে কি না।

একই বিভাগের আরও খবর