বুধবার (৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃক্ষরোপণ সেলের পঞ্চম সভায় এ অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বৃক্ষরোপণ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: এ পর্যন্ত রোপণ ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা
সভায় জানানো হয়, চলতি বছর প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত ছকে তথ্য দেওয়া ১১টি দপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা রোপণের তথ্য পাওয়া গেছে।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। কর্মসূচি সফল করতে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
আরও পড়ুন
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাকৃতিক কারণে কিছু চারা মারা যেতে পারে। তাই আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। নার্সারির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা ও এলাকার উপযোগিতা এবং গাছের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনায় নিয়ে বৃক্ষরোপণ করা হলে চারার বেঁচে থাকার হার বাড়বে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়া গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং পুনঃরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থার বৃক্ষরোপণের তথ্য একই কাঠামোয় সংগ্রহ করে সমন্বিত হিসাব তৈরির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান ট্রি ওয়ান চাইল্ড’ উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণের তথ্য সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার ও ড্যাশবোর্ড তৈরির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।