৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর নাসিরনগরের ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। এরপর মডেল মসজিদে নিয়োগ, সরকারি লবণ বিতরণ, জলমহাল ও পশুর হাট ইজারা, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ, তবু পেলেন পদোন্নতি
মডেল মসজিদে খতিব ও ইমামসহ কয়েকটি পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা ২০২৫ সালের ৩ মার্চ ইউএনও শাহীনা নাছরিন, জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তার অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েও মৌখিক পরীক্ষায় তাকে কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। বিপরীতে নির্বাচিত প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ১৮ দশমিক ৫ নম্বর দেওয়া হয়। নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তিনি।
সরকারি ২৪০ বস্তা লবণ বিতরণেও অনিয়ম ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ জুন লবণ চুরি করে বিক্রির সময় কয়েকজন কর্মচারী আটক হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চুক্তিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী রকিবুল হাসানকে দায়ী করে চাকরিচ্যুত করা হয়। রকিবুলের দাবি, মূল অভিযুক্তদের বাঁচাতেই তাকে মানসিক রোগী সাজানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন
জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অকার্যকর সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজশে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিল কুপা জলমহাল ইজারায় প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্রকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট এক সমবায় সমিতির সম্পাদক।
অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট ইজারাতেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শিডিউল কেনা অনেক ইজারা প্রত্যাশীকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কয়েকটি হাটে প্রাথমিক দরের চেয়ে সামান্য বেশি দর দেখিয়ে ইজারা দেওয়া হলেও এর আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফান্দাউকের স্থায়ী গরুর বাজার ইজারায়ও প্রতিযোগীকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ইউপি সদস্য।
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ, সরকারি ডোবা ভরাট, সরকারি বাসভবনের সামনের পুকুর সংস্কার, কোটেশনের কাজ, কৃষিজমি ভরাট এবং উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের মতো আরও অভিযোগ রয়েছে। চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া চক বাজারসংলগ্ন সড়ক নির্মাণেও ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহীনা নাছরিন বলেন, ইমাম নিয়োগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। গরুর বাজার ইজারার সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হলেও তিনি তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে বিভিন্ন সুপারিশ ছিল বলে স্বীকার করলেও কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অন্য অভিযোগগুলোও সত্য নয় এবং সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।