বৃহস্পতিবার হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ টানতে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ার তাগিদ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজেই তুলনা করতে পারেন। তাই বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ, নীতি ও সক্ষমতার দিক থেকে সমতুল্য অবস্থানে যেতে হবে।
তিনি জানান, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও শিগগির আলোচনা শুরুর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ সরবরাহ ব্যয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, উৎপাদন ও আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমিয়ে এ ব্যবধান কমাতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পণ্য পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে।
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খোলার পর্যায়ে যেতে পারবে। ট্রেড লাইসেন্স, শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ীকরণ এবং ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য পরিদর্শন চালুর মাধ্যমে সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও প্রক্রিয়া অনেকটাই শিথিল হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তাই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অবকাঠামো, নীতি, কাস্টমস ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।