ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাঁথিয়া পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
সাঁথিয়ায় বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) আফতাবনগর জামে মসজিদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে ইমামতি করতে চাইলে বিএনপির সমর্থকদের আপত্তির মুখে সেখানে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে ওই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে জামায়াতের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়।
আরও পড়ুন
এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয় বিএনপি।
রাত পৌনে ৮টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে পাশের তিন রাস্তার মোড়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা অবস্থান নেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বিএনপির মিছিলটি নির্ধারিত রুটে না গিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে উপজেলা চত্বর হয়ে জুলকারনাইন চত্বরে গিয়ে পথসভা শেষে শেষ হয়।
এদিকে ঘটনার পর সাঁথিয়া পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচি বানচাল করতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনিসুর রহমান বলেন, স্থানীয় কিছু কর্মী-সমর্থক সেখানে জড়ো হলেও হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পুলিশের অনুরোধে তারা সরে যান। অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।