ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী উৎসে আয়কর কেটে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ খাতে একই সময়ে ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকার আয়করও জমা দেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ফাঁকি দেওয়া ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং গভর্নিং বডির নেওয়া এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তার চালানের অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৮ শিক্ষকের মধ্যে নিয়োগ অবৈধ ১০৫ জনের
অডিট প্রতিবেদনে কলেজটির ভৌত অবকাঠামো ও প্রশাসনিক অবস্থারও বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০ হাজার ৮১১ জন। প্রায় ৩৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৮০টি শ্রেণিকক্ষ। তবে, পরিদর্শনের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি ও একাডেমিক হিসাব পরিদর্শন দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে কলেজটির বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত রিট পিটিশন (মামলা নং-৪৭২/২০১৩), ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলা (মামলা নং-১৯/২৫৮-২০১৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি মামলা (মামলা নং-১৩২৫২/২০১৩) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত দুটি মামলা (মামলা নং-০৭/১৮৫-২০১২ ও ০৬/১৮৪-২০১২)। তবে, এসব মামলা পরিচালনায় কলেজের তহবিল থেকে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার কোনো হিসাব বা প্রমাণকও অডিট দলকে দেখাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক পরিচালনায় যেসব ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব এবং সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কলেজটি পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।
অডিট প্রতিবেদনে ঢাকা সিটি কলেজের নিয়োগ ও আর্থিক পরিচালনায় যেসব ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকারি আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি টাকার সঠিক হিসাব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক।’
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেদনের ব্রডশিট জবাবের জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়েছি। জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট