ধর্ম

জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে ‘বাবা’ বলা নিয়ে ইসলাম কী বলে?

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।” (সুরা আল-ইসরা: ২৩)

এছাড়া বংশপরিচয় সংরক্ষণের গুরুত্ব দিয়ে কোরআনে আরও বলা হয়েছে, “তাদেরকে তাদের পিতার নামেই ডাকো। এটিই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সংগত।” (সুরা আল-আহযাব: ৫)

এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭৬৬)

আরও পড়ুন

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লানত।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৭০)

তবে ইসলামী গবেষকদের মতে, এসব হাদিসের মূল উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের বংশপরিচয় পরিবর্তন বা গোপন করে অন্যকে প্রকৃত পিতা হিসেবে দাবি করা নিষিদ্ধ করা।

অন্যদিকে, রসিকতা বা আবেগের বশে কাউকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করলে তা বংশপরিচয় পরিবর্তনের দাবি নয়। তবুও ইসলামে শালীন ও অর্থবহ ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোরআনে বলা হয়েছে, “মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার নিকট তৎপর প্রহরী (ফেরেশতা) উপস্থিত থাকে।” (সুরা ক্বাফ: ১৮)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “বান্দা এমন একটি কথা বলে, যার পরিণতি সে গুরুত্ব দেয় না; অথচ সে কারণে সে জাহান্নামে অনেক দূরে নিক্ষিপ্ত হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৮)

এ কারণে ইসলামী শিক্ষাবিদদের মতে, ঠাট্টা, ট্রল বা অতিরঞ্জিত ভক্তি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ‘বাবা’ শব্দ ব্যবহার করা একজন মুসলিমের জন্য পরিহারযোগ্য। কারণ এতে পিতা শব্দের মর্যাদা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের মতে, খেলাধুলা বা কোনো ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রকাশ যেন ইসলামী শিষ্টাচার, ভাষার সংযম এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।

একই বিভাগের আরও খবর