রাজনীতি

ছাত্রলীগের পদধারী থেকে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ব্যাখ্যায় যা বললেন দুই নেতা

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গত ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান তোফায়েল আহমেদ ও এ. এস. এম. সানোয়ার রাব্বী প্রমিস।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন অনুষদ কমিটিতে তোফায়েল আহমেদ সহ-সভাপতি এবং সানোয়ার রাব্বী প্রমিস উপ-ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নতুন ছাত্রদল কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

বিতর্কের বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্যাম্পাসের বাস্তবতায় অনেক কিছুই কৌশলগতভাবে করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রত্ব রক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হলেও তিনি আদর্শগতভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেই ছিলেন।

আরও পড়ুন

তার ভাষ্য, “ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস ও হলের পরিস্থিতির কারণে কৌশলে বা পারিপার্শ্বিক কারণে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে আমার উপস্থিতি থাকতে পারে। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রত্ব চলে গেলে আমাদের জীবন অন্ধকার হয়ে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “২০২২ সাল, ২০২৪ সাল এমনকি তারও আগে প্রকাশ্যে ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। এসবের প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।”

অন্যদিকে সানোয়ার রাব্বী প্রমিস ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আইন অনুষদের অনেক শিক্ষার্থীর মতো তার নামও অনুমতি ছাড়াই ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমি কখনোই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমার কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবিও কেউ দেখাতে পারবে না। নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিভাগকেও জানিয়েছিলাম।”

রাব্বীর দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনের সারিতে ছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস থেকেই ছাত্রদলে সক্রিয় হয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তারা জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং অতীতেও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সে সময় অনেককে অনিচ্ছায় বা না জানিয়ে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তবে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

একই বিভাগের আরও খবর