মন্ত্রী আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় শহিদ আবু সাঈদ ও অন্যান্য শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
আবু সাঈদসহ জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জুলাই আন্দোলনের সূচনা প্রসংগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত একদিনে ঘটে না। অনেক কিছু জমা হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। তেমনি জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয় ২০০৯ সাল থেকে আমাদের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমে। এসময় অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল গত প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার করেছে। তাদের আচরণ ছিলো হিংস্র।
তারা স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর নির্যাতন করেছে। চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে,
জেলখানায় হয়রানি করেছে। সাধারণ জনগণ স্বৈরাচারী সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। সন্তানকে বিপ্লবে অংশ নিতে পাঠিয়েছে। তরুন আবু সাঈদ দু'হাত তুলে বলেছে - গুলি কর।
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জুলাই শহিদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের পটভূমি একদিনে তৈরি হয়নি, ২০০৯ সাল থেকে যে অপশাসন শুরু হয় তা পুঞ্জিভূত হয়ে ধীরে ধীরে বিস্ফোরণে পরিণত হয়। ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিফ এর রক্তের মধ্য দিয়ে অপশাসন বিরোধী আন্দোলন গতি পায়। তিনি বলেন, উন্নত মানের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করলেই শহিদদের যথাযথ সম্মান জানানো হবে।