অপরাধ

এক প্লেট ফুচকায় ৭ কোটি মলমূত্রের জীবাণু, চাঞ্চল্যকর তথ্য ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তার

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সম্প্রতি এক আলোচনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) আব্দুল জব্বার মন্ডল এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাজারে প্লাস্টিকের ডিম বা প্লাস্টিকের চালের মতো যেসব গুজব ছড়ানো হয়, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই। কারণ প্লাস্টিক দিয়ে এসব পণ্য তৈরি করতে যে ব্যয় হয়, তা সাধারণ খাদ্যপণ্যের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এ ধরনের গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রকৃত খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তিনি জানান, বাজারে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো খাবারে ক্ষতিকর টেক্সটাইল রংয়ের ব্যবহার। অনেক রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান খাবারের আকর্ষণ বাড়াতে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রং ব্যবহার করে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন

স্ট্রিট ফুড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রিয় অনেক খাবারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত হওয়ায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও মলমূত্রজনিত জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই বাইরে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

রেস্টুরেন্টে পরিচালিত অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে বাসি খাবার সংরক্ষণ, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘরের মতো নানা অনিয়ম পাওয়া যায়। কোনো রেস্টুরেন্টে তেলাপোকা, নোংরা পরিবেশ বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে ভোক্তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, কোনো ভোক্তা যদি খাবার খেয়ে অসুস্থ হন, তাহলে হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।

ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে ১৬১২১ হটলাইনে ফোন করা ছাড়াও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই অভিযোগ করা যায় বলে জানান তিনি।

অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ঠিকানা, গ্রাহকের মতামত ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পণ্য গ্রহণের সময় ডেলিভারি কর্মীর উপস্থিতিতে প্যাকেট খুলে দেখা এবং সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

দৈনন্দিন কেনাকাটায় মাছ, মাংস বা মুরগি কেনার সময় ওজন ও মান যাচাই করার পাশাপাশি প্রতিটি কেনাকাটার ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষ্য, যেকোনো আইনি অভিযোগ বা ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে ক্যাশ মেমো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ভোক্তা হিসেবে সচেতন থাকাই প্রতারণা থেকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে নীরব না থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানানো এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়াই নিরাপদ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

একই বিভাগের আরও খবর